ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন ২০২৬-লোন নেয়ার নিয়ম,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আপনি কি ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন সম্পর্কে জানতে চান? কিংবা আপনি কি বিদেশ যাবেন আপনার টাকার প্রয়োজন? কোনো সমস্যা নেই, ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন হবে আপনার জন্য অনেক উপকারী। 

আপনি কি জানতে চান যে, কিভাবে ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে প্রবাসী লোন নিবো? কি কি কাগজপত্র লাগবে?লোনের সুন্দর হার কত ,লোন পরিশোধের নিয়ম কেমন, কত টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া যাবে?

আচ্ছা, যদি আপনি এইসব জানতে চান তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। আপনি এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে এইসব বিষয় একদম বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাই চলুন শুরু করা যাক। 

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন কি?

ডাচ বাংলা ব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটি বেসরকারি ব্যাংক। প্রবাসীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য এই ব্যাংক বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান করে থাকে, যা সাধারণত “Probashi Loan” বা “NRB Loan” নামে পরিচিত।

মূলত যারা বর্তমানে বিদেশে কর্মরত আছেন এবং বৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন, তাদের জীবনমান উন্নত করতে এবং বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন ব্যবহার করে একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা তার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন খুব সহজেই । 

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোনের বৈশিষ্ট্যসমূহ

যেকোনো লোন নেওয়ার আগে তার বৈশিষ্ট্যগুলো জানা জরুরি। ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোনের বিশেষ কিছু দিক হলোঃ– 👇 

  • সহজ আবেদন প্রক্রিয়া: প্রবাসীদের সময়ের মূল্য বিবেচনা করে এই ব্যাংকের আবেদন প্রক্রিয়া বেশ দ্রুত ও সহজতর।
  • সর্বোচ্চ লোনের সীমা: প্রবাসীদের জন্য ব্যক্তিগত ঋণের সর্বোচ্চ সীমা ১০,০০,০০০ টাকা।
  • আয়ের শর্ত: * যদি ডাচ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠান: মাসিক আয় ন্যূনতম ৪০,০০০ টাকা হতে হবে।
  • যদি অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠান: মাসিক আয় ন্যূনতম ৮০,০০০ টাকা হতে হবে।
  • আকর্ষণীয় সুদের হার: অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় ডাচ-বাংলা ব্যাংক প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার অফার করে।
  • দীর্ঘমেয়াদী কিস্তি: লোন পরিশোধের জন্য গ্রাহকরা দীর্ঘ সময় পান, যা তাদের ওপর আর্থিক চাপ কমায়।
  • গ্যারান্টার সুবিধা: অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিকটাত্মীয়কে গ্যারান্টার হিসেবে রেখে লোন নেওয়া সম্ভব হয়।
  • দ্রুত প্রসেসিং: সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লোন অনুমোদন পাওয়া যায়।
  • লোনের পরিমাণ: আপনার মাসিক আয় এবং পরিশোধ করার ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে এই ব্যাংকটি ৫ লক্ষ থেকে শুরু করে ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি (শর্তসাপেক্ষে) লোন প্রদান করে থাকে।
  • নিরাপদ বিনিয়োগ: বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয়ের ক্ষেত্রে বড় অংকের লোন পাওয়া যায়।
ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন যোগ্যতা

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন পেতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। যদি আপনি এইগুলো পুরন করতে পারেন, তাহলে প্রবাসী লোন পাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আসুন দেখে নেয়া যাক যে সেগুলো কি কি! 👇

  1. নাগরিকত্ব: আবেদনকারীকে অবশ্যই জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হতে হবে।
  2. বয়স: সাধারণত আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে (এটি লোনের ক্যাটাগরি ভেদে ভিন্ন হতে পারে)।
  3. বিদেশের বৈধতা: প্রবাসীদের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা এবং কর্মসংস্থানের চুক্তিনামা থাকতে হবে।
  4. কাজের অভিজ্ঞতা: বিদেশে অন্তত ১ থেকে ২ বছর ধরে কর্মরত থাকার প্রমাণ দেখাতে হতে পারে (পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে)।
  5. ন্যূনতম আয়: লোন পরিশোধের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ব্যাংকের নির্ধারিত মাসিক আয়ের সীমা থাকতে হবে।
  6. ব্যাংক একাউন্ট: ডাচ-বাংলা ব্যাংকে একটি সচল সেভিংস একাউন্ট থাকতে হবে যার মাধ্যমে রেমিট্যান্স লেনদেন হয়।
  7. ন্যূনতম আয়: আবেদনকারীর মাসিক আয় একটি নির্দিষ্ট অংকের হতে হবে (এটি সাধারণত ব্যাংকের পলিসি অনুযায়ী পরিবর্তন হয়, তবে সাধারণত ১০০০-১৫০০ ডলার বা সমপরিমাণ আয় থাকা ভালো)।
  8. রেমিট্যান্স রেকর্ড: আবেদনকারীকে নিয়মিত ডাচ বাংলা ব্যাংক বা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠানোর রেকর্ড থাকতে হবে।

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

যেকোনো ব্যাংক লোন নেয়ার জন্য সঠিক কাগজপত্র জমা দেয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন এর ক্ষেত্রে যে সকল কাগজপত্রগুলো অবশ্য করণীয় তা নিচে তালিকাভুক্ত করা হলো:

প্রবাসীর (আবেদনকারীর) জন্য

  1. বৈধ পাসপোর্টের ফটোকপি (ভিসা পেজসহ)।
  2. বিদেশে কাজের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা আকামা এর কপি।
  3. এমপ্লয়মেন্ট সার্টিফিকেট (Employment Certificate) বা নিয়োগকর্তার দেয়া প্রত্যয়নপত্র।
  4. সর্বশেষ ৩ থেকে ৬ মাসের স্যালারি স্লিপ বা বেতন পে-স্লিপ।
  5. বিদেশের যে ব্যাংকে প্রবাসীর বেতন ঢোকে, সেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিগত ৬ মাসের স্টেটমেন্ট।
  6. দেশে টাকা পাঠানোর (রেমিট্যান্স) প্রমাণপত্র বা স্লিপ।
  7. পাসপোর্ট সাইজের সদ্য তোলা রঙিন ছবি।

দেশীয় আবেদনকারীর (নমিনি/পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি) কাগজপত্র

  1. জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি।
  2. ইউটিলিটি বিলের কপি (গ্যাস/বিদ্যুৎ)।
  3. প্রবাসীর সাথে সম্পর্কের প্রমাণপত্র।
  4. ২ জন গ্যারান্টরের ছবি ও এনআইডি।

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন নেয়ার নিয়ম

আপনি যদি সমস্ত যোগ্যতা পূরণ করেন এবং কাগজপত্র প্রস্তুত থাকে, তবে নিচে দেয়া ধাপগুলো অনুসরণ করে খুব সহজেই ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন জন্য আবেদন করতে পারবেন:– 

  • ধাপ ১: প্রথমে আপনার ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি ডাচ বাংলা ব্যাংকের নিকটস্থ শাখায় গিয়ে লোন অফিসারের সাথে কথা বলবেন। আপনার মাসিক আয় ও চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংক কত টাকা লোন দিতে পারবে, তা তারা জানিয়ে দেবে।
  • ধাপ ২: ব্যাংক থেকে একটি লোন অ্যাপ্লিকেশন ফর্ম দেয়া হবে। প্রতিনিধি সেই ফর্মটি সঠিকভাবে পূরণ করে উপরে উল্লেখিত সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করে ব্যাংকে জমা দেবেন।
  • ধাপ ৩: ব্যাংক আপনার দেয়া সকল তথ্য, বিদেশের কর্মস্থল, আয়ের উৎস এবং দেশে থাকা প্রতিনিধির ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করবে।
  • ধাপ ৪: সব তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে ব্যাংক আপনার লোনটি অনুমোদন বা অ্যাপ্রুভ করবে।
  • ধাপ ৫: লোন অনুমোদনের পর ডাচ বাংলা ব্যাংকে থাকা আপনার বা আপনার প্রতিনিধির অ্যাকাউন্টে লোনের টাকা ট্রান্সফার করে দেয়া হবে।

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোনের সুদের হার

লোন নেয়ার আগে সুদের হার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী সুদের হার পরিবর্তনশীল হয়ে থাকে। বর্তমানে ডাচ বাংলা ব্যাংকে পার্সোনাল এবং হোম লোনের সুদের হার সাধারণত ৯% থেকে ১১% এর মধ্যে ওঠানামা করে।

সুদের হারের পাশাপাশি লোন প্রসেসিং ফি হিসেবে সাধারণত মোট লোন এমাউন্টের উপর ০.৫০% থেকে ১% পর্যন্ত চার্জ কাটা হতে পারে। এর সাথে সরকারি ভ্যাট (VAT) যুক্ত থাকে। লোন নেয়ার আগেই ব্যাংক ম্যানেজারের কাছ থেকে বর্তমান সুদের হার এবং প্রসেসিং ফি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন পরিশোধের নিয়ম

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন পরিশোধের নিয়ম অত্যন্ত সহজ এবং গ্রাহকবান্ধব। লোন পরিশোধ করতে হয় ইএমআই (EMI – Equated Monthly Installment) বা সমপরিমাণ মাসিক কিস্তির মাধ্যমে।

  • কিস্তি পরিশোধের মাধ্যম: প্রবাসীরা বিদেশ থেকে সরাসরি ডাচ বাংলা ব্যাংকের নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে কিস্তি পরিশোধ করতে পারেন। অথবা দেশে থাকা প্রতিনিধি ওই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়ে কিস্তি চালাতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় যদি অটো-ডেবিট (Auto-Debit) সিস্টেম চালু করে রাখেন। এতে প্রতি মাসের একটি নির্দিষ্ট তারিখে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তির টাকা কেটে নেয়া হবে।
  • আংশিক বা আগাম পরিশোধ (Early Settlement): আপনি যদি লোন মেয়াদের আগেই আপনার পুরো টাকা পরিশোধ করে দিতে চান, তবে ডাচ বাংলা ব্যাংক সেই সুবিধাও দেয়। এক্ষেত্রে সামান্য কিছু সেটেলমেন্ট ফি প্রদান করে আপনি যেকোনো সময় লোনটি পুরোপুরি শোধ করে দিতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ   রূপালী ব্যাংক পার্সোনাল লোন ২০২৬-লোন নেয়ার নিয়ম বিস্তারিত

ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন নেওয়ার সুবিধা ও অসুবিধা

যেকোনো আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার ভালো-মন্দ দুই দিকই বিচার করা উচিত। আসুন ডাচ বাংলা ব্যাংকের সুবিধা ও অসুবিধা গুলো জেনে নেই।  

সুবিধাসমূহ:

  • দেশের অন্যতম বড় নেটওয়ার্ক থাকায় যেকোনো ব্রাঞ্চ থেকে সেবা নেওয়া যায়।
  • অনলাইন ব্যাংকিং এবং মোবাইল অ্যাপ (Rocket) এর মাধ্যমে লোন ট্র্যাক করা যায়।
  • লুকানো কোনো চার্জ (Hidden Charges) সাধারণত থাকে না।

অসুবিধাসমূহ:

  • কাগজপত্রের সত্যতা যাচাইয়ে ব্যাংক বেশ কড়াকড়ি করে।
  • ক্রেডিট স্কোর বা সিআইবি (CIB) রিপোর্ট খারাপ থাকলে লোন পাওয়া সম্ভব হয় না।

প্রবাসী লোন নেয়ার কিছু পরামর্শ

লোন বা ঋণ মানেই একটি আর্থিক দায়বদ্ধতা। তাই প্রবাসীদের জন্য ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন নেয়ার ক্ষেত্রে নিচে কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং উত্তম পরামর্শ দেয়া হলো, যা আপনাকে ভবিষ্যতের যেকোনো আর্থিক ঝুঁকি থেকে রক্ষা করবে:

  1. প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোন নেবেন না। ব্যাংক আপনাকে হয়তো ২০ লাখ টাকা লোন দিতে রাজি, কিন্তু আপনার প্রয়োজন ১০ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে আবেগতাড়িত হয়ে ২০ লাখ টাকা নেবেন না। মনে রাখবেন, যত বেশি লোন, তত বেশি সুদ এবং তত বড় কিস্তির বোঝা।
  1. বিশ্বস্ত প্রতিনিধি নির্বাচন করুন । যেহেতু আপনি বিদেশে থাকবেন, তাই দেশে আপনার পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি এমন কাউকে দিন, যাকে আপনি নিজের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করেন। স্ত্রী, বাবা বা মা-কে এই দায়িত্ব দেয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
  1. নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠান। লোন নেয়ার পরিকল্পনা থাকলে অন্তত ১ বছর আগে থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠান। এতে ব্যাংকের কাছে আপনার গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়ে যাবে এবং লোন পাওয়া পানির মতো সহজ হবে।
  1. কিস্তি দিতে দেরি করবেন না। প্রতি মাসে কিস্তির তারিখের অন্তত ২-৩ দিন আগে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা রাখুন। কিস্তি বাউন্স বা ফেল করলে ব্যাংক পেনাল্টি চার্জ বা জরিমানা কাটবে, যা আপনার আর্থিক ক্ষতি করবে এবং সিআইবি (CIB) রিপোর্টে খারাপ প্রভাব ফেলবে।
  1. হিডেন চার্জ ও এগ্রিমেন্ট ভালো করে পড়ুন। লোনের ফর্মে সাইন করার আগে আপনার প্রতিনিধিকে বলবেন যেন তিনি ব্যাংকের এগ্রিমেন্ট পেপার বা চুক্তিনামা খুব ভালো করে পড়ে দেখেন।
আরও পড়ুনঃ  সিটি ব্যাংক হোম লোন ২০২৬-লোন নেয়ার নিয়ম,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেনে নিন

উপসংহার

ডাচ বাংলা ব্যাংক সবসময়ই গ্রাহকবান্ধব সেবা দিয়ে আসছে। যারা প্রবাসে আছেন বা বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন একটি আস্থার জায়গা হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা এবং সঠিক কাগজপত্রের মাধ্যমে আপনিও এই লোন সুবিধা গ্রহণ করে আপনার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।

আশা করি এই আর্টিকেলটি আপনাকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের লোন প্রক্রিয়া বুঝতে সাহায্য করেছে। মনে রাখবেন, লোন নেওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক প্রতিশ্রুতি, তাই সব শর্তাবলী ভালোভাবে পড়ে তবেই স্বাক্ষর করুন।

FAQ

১. প্রবাসীরা কি সরাসরি লোন পায়?
উত্তরঃ না, প্রবাসীদের বাংলাদেশে থাকা কোনো নিকটাত্মীয়কে (বাবা/মা/স্ত্রী/স্বামী) ‘মেইন অ্যাপ্লিকেন্ট’ বা সহ-আবেদনকারী হিসেবে রেখে লোন নিতে হয়।

২. লোনের টাকা দিয়ে কি বিদেশ যাওয়া যাবে?
উত্তরঃ ডাচ-বাংলা ব্যাংক সাধারণত ‘পার্সোনাল লোন’ বা ‘হোম লোন’ দেয়। সরাসরি ‘বিদেশে যাওয়ার লোন’ (Migration Loan) তারা দেয় না, তবে পার্সোনাল লোন নিয়ে সেই টাকা যেকোনো কাজে ব্যবহার করা যায়।

৩. কত টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়া যায়?
উত্তরঃ সাধারণত ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পার্সোনাল লোন পাওয়া যেতে পারে। তবে এটি আপনার মাসিক আয় বা রেমিট্যান্স কত আসে তার ওপর নির্ভর করে।

৪. জামানত বা সিকিউরিটি কি লাগে?
উত্তরঃ পার্সোনাল লোনের জন্য সাধারণত জমি বা ফ্ল্যাট বন্ধক রাখা লাগে না। তবে ১ বা ২ জন গ্যারান্টার (যারা বাংলাদেশে থাকেন) প্রয়োজন হয়।

৫. লোন পেতে মাসিক ইনকাম কত হতে হয়?
উত্তরঃ প্রবাসীর মাসিক আয় বা রেমিট্যান্স কমপক্ষে ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা (লোনের ধরন ভেদে) হতে হয়।

Share Now
Moshiur Rahman

I'm a writer, I always collect information on various topics and present a quality article on that topic. I want everyone to know and learn the correct information, so that they do not believe in wrong information.

error: Content is protected !!