আপনি কি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চান , কিংবা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে লোন নিতে চান? আপনি কি জানতে চাচ্ছেন যে কিভাবে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নিবো ? কিভাবে লোনের জন্য আবেদন করবো, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের লোনের সুদের হার কত ইত্যাদি ?
তাহলে দেরি নয়। আপনি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে এইসব বিষয় একদম খুঁটি-নাটি বিস্তারিত জানতে পারবেন। আপনি জানতে পারবেন প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনটি কাদের জন্য , কারা পাবে এই লোন, লোন নেয়ার নিয়ম, লোণের সুদের হার, লোন নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ইত্যাদি সব। তাহলে চলুন শুরু করি মূল আলোচনা ।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কী?
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক হলো বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষায়িত ব্যাংক। ২০১১ সালে যাত্রা শুরু করা এই ব্যাংকের মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসী কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। বিশেষ করে যারা উচ্চ সুদে দাদন ব্যবসা বা জমি বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করাই এই ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন তথ্য তালিকা

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের প্রকারভেদ
সব প্রবাসীর প্রয়োজন এক নয়। তাই ব্যাংকটি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে লোন দিয়ে থাকে:
- অভিবাসন ঋণ (Migration Loan): যারা নতুন বিদেশে যাচ্ছেন তাদের জন্য।
- পুনর্বাসন ঋণ (Rehabilitation Loan): বিদেশ থেকে ফিরে এসে দেশে ব্যবসা করতে চাইলে।
- বঙ্গবন্ধু অভিবাসন ঋণ: বিশেষ সুবিধাযুক্ত ঋণ।
- স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক ঋণ।

প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের বৈশিষ্ট্য
কেন আপনি অন্য ব্যাংক বাদ দিয়ে এই লোন গ্রহণ করবেন? এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে:
- কম সুদের হার: বেসরকারি ব্যাংকের তুলনায় এখানে সুদের হার অনেক কম।
- সহজ কিস্তি: প্রবাসীরা যাতে সহজে টাকা ফেরত দিতে পারেন, সেই অনুযায়ী কিস্তি নির্ধারণ করা হয়।
- কোনো লুকানো চার্জ নেই: এখানে লোনের প্রক্রিয়ায় কোনো অতিরিক্ত বা গোপন খরচ নেই।
- দ্রুত প্রসেসিং: সঠিক কাগজপত্র থাকলে খুব দ্রুতই লোন পাওয়া যায়।
- দেশব্যাপী শাখা: বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় এর শাখা রয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন যোগ্যতা
সবাই এই লোন পাওয়ার যোগ্য নন। আবেদন করার আগে আপনাকে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:
- নাগরিকত্ব: আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- বয়স: সাধারণত ১৮ থেকে ৪৫ বা ৫০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- বৈধতা: বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে বিএমইটি (BMET) এর স্মার্ট কার্ড এবং বৈধ ভিসা থাকতে হবে।
- নিশ্চয়তা: একজন বা দুইজন উপযুক্ত জামিনদার থাকতে হবে।
- আর্থিক সচ্ছলতা: ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা থাকতে হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন পেতে হলে আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্রসহ ব্যাংকের শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো হলো:
বিদেশ যাওয়ার জন্য (অভিবাসন ঋণ)
- আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
- পাসপোর্টের ফটোকপি।
- বিএমইটি (BMET) প্রদত্ত স্মার্ট কার্ডের কপি।
- ভিসার ফটোকপি এবং চুক্তিনামা (Job Contract)।
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি।
- জামিনদারের ছবি এবং আইডি কার্ডের কপি।
ব্যবসা করার জন্য (পুনর্বাসন ঋণ)
- বিদেশে ছিলেন তার প্রমাণপত্র (পাসপোর্টের এক্সিট সিল বা পাস বুক)।
- ট্রেড লাইসেন্স (যদি ব্যবসা করতে চান)।
- ব্যবসার প্রজেক্ট প্রোফাইল বা ব্যবসার পরিকল্পনা।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোনের সুদের হার
সুদের হার সময়ের সাথে সামান্য পরিবর্তন হতে পারে, তবে বর্তমানে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী:
- অভিবাসন ঋণের ক্ষেত্রে: সুদের হার সাধারণত ৯% (সরল সুদ)।
- নারী কর্মীদের জন্য: নারী প্রবাসীদের ক্ষেত্রে সুদের হার আরও কম, অনেক ক্ষেত্রে এটি মাত্র ৪% হয়ে থাকে।
- পুনর্বাসন ঋণ: ব্যবসা ভেদে এটি ৭% থেকে ৯% এর মধ্যে থাকে।
(দ্রষ্টব্য: বর্তমান সুদের হার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আপনার নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করা উত্তম।)
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নেয়ার নিয়ম
আপনার কাগজপত্র যেহেতু প্রস্তুত, তাহলে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে গিয়ে “প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন” পাওয়ার জন্য আপনাকে ধাপে ধাপে যা করতে হবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো:
১. লোন অফিসারের সাথে সাক্ষাৎ:
* প্রথমে ব্যাংকের তথ্য ডেস্কে (Information Desk) যান এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের লোন অফিসারের সাথে দেখা করার কথা বলুন।
* তিনি আপনাকে একজন উপযুক্ত কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেবেন, যিনি লোনের আবেদন নিয়ে কাজ করেন।
২. আবেদনপত্র ও কাগজপত্র জমা দেওয়া:
* লোন অফিসারের কাছে আপনার পূরণকৃত আবেদনপত্র এবং সাথে সমস্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (পাসপোর্ট, ভিসা, বিএমইটি কার্ড, এনআইডি, ছবি, চুক্তিনামা, জামিনদারদের কাগজপত্র ইত্যাদি) জমা দিন।
* কর্মকর্তা আপনার কাগজপত্র প্রাথমিকভাবে যাচাই করে দেখবেন যে সবকিছু ঠিক আছে কিনা এবং কোনো কিছু বাদ পড়েছে কিনা।
৩. প্রাথমিক যাচাই ও নির্দেশনা:
* কর্মকর্তা আপনার কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত করবেন যে সবকিছু সঠিকভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে।
* যদি কোনো কাগজপত্রে ত্রুটি থাকে বা কোনো অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি আপনাকে সেই বিষয়ে জানিয়ে দেবেন।
* তিনি আপনাকে লোনের শর্তাবলী, সুদের হার এবং পরিশোধের নিয়মাবলী সম্পর্কে একটি ধারণা দেবেন।
৪. ফাইল খোলা ও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া:
* আপনার জমা দেওয়া কাগজপত্র দিয়ে ব্যাংক একটি লোন ফাইল তৈরি করবে।
* কর্মকর্তা আপনার তথ্য ব্যাংকের সিস্টেমে এন্ট্রি করবেন এবং আপনার লোনের আবেদনটি পরবর্তী প্রক্রিয়াকরণের জন্য পাঠাবেন।
* এই ধাপে ব্যাংক আপনার দেওয়া তথ্য এবং বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি (বিশেষত ভিসা ও চুক্তিনামা) যাচাই করার জন্য অভ্যন্তরীণভাবে কাজ শুরু করবে।
৫. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা (যদি না থাকে):
* যদি আপনার প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে কোনো অ্যাকাউন্ট না থাকে, তবে লোন অনুমোদনের আগে আপনাকে একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে বলা হবে। লোনের টাকা এই অ্যাকাউন্টেই জমা হবে।
৬. যাচাইকরণ (Verification) ও অনুমোদন:
* ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর, এবং সবকিছু সঠিক পাওয়া গেলে, আপনার লোনের আবেদনটি অনুমোদনের জন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।
* আপনি লোনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হলে, আপনাকে ব্যাংক থেকে লোনের অনুমোদনের বিষয়ে জানানো হবে।
৭. আইনগত কাগজপত্র স্বাক্ষর:
* লোন অনুমোদিত হওয়ার পর, আপনাকে লোনের চুক্তিপত্র (Loan Agreement) এবং অন্যান্য আইনগত নথিপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে। এর মধ্যে লোনের মঞ্জুরিপত্র (Sanction Letter) এবং জামিনদারদের চুক্তিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
* আপনার এবং আপনার জামিনদারদের স্বাক্ষরগুলো ব্যাংকের উপস্থিতিতে নেওয়া হবে।
৮. লোনের অর্থ ছাড় (Disbursement):
* সকল চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, ব্যাংক আপনার নবনির্মিত বা বিদ্যমান সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্টে “প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন” এর অর্থ জমা করে দেবে।
* আপনি চাইলে চেক বা এটিএম কার্ডের মাধ্যমে সেই টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
- ব্যাংকে গিয়ে ভদ্রভাবে কথা বলুন এবং আপনার উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করুন।
- ফরম পূরণে বা কাগজপত্রে কোনো কিছু বুঝতে না পারলে ব্যাংক কর্মকর্তার সাহায্য নিন।
- কোনো দালালের সাহায্য নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
- আপনার সব মূল কাগজপত্র সুরক্ষিত রাখুন, ফটোকপি জমা দিন।
এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে আপনি খুব সহজেই “প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন” গ্রহণ করতে পারবেন।
লোন পরিশোধের নিয়ম
লোন নেওয়া যতটা সহজ, পরিশোধের নিয়মগুলো জানলে তা আরও সহজ মনে হবে:
- গ্রেস পিরিয়ড: লোন নেওয়ার পর সাধারণত ২ থেকে ৩ মাস পর্যন্ত কিস্তি দিতে হয় না (যাকে গ্রেস পিরিয়ড বলে)। যাতে বিদেশে গিয়ে থিতু হওয়ার সময় পাওয়া যায়।
- কিস্তির ধরণ: লোনটি সাধারণত ১৫ থেকে ৩৬টি মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হয়।
- টাকা জমা: সরাসরি ব্যাংকের কাউন্টারে বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়া যায়।
আরও পড়ুনঃ ডাচ বাংলা ব্যাংক প্রবাসী লোন ২০২৬-লোন নেয়ার নিয়ম,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
প্রবাসীরা এই লোন কিভাবে নিবেন?
আপনি যদি একজন প্রবাসী হতে চান এবং এই লোনের মাধ্যমে আর্থিক সংকট দূর করতে চান, তবে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- ধাপ ১: প্রথমে আপনার জেলার প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক শাখায় যান।
- ধাপ ২: লোন অফিসার থেকে আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করুন এবং নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
- ধাপ ৩: আপনার পাসপোর্ট, ভিসা এবং স্মার্ট কার্ডের কপি সংযুক্ত করুন।
- ধাপ ৪: আপনার এলাকার একজন সরকারি চাকরিজীবী বা গণ্যমান্য ব্যক্তিকে জামিনদার হিসেবে নির্বাচন করুন।
- ধাপ ৫: ব্যাংক আপনার তথ্য যাচাই (Verification) করবে।
- ধাপ ৬: সব ঠিক থাকলে ৩-৭ কার্যদিবসের মধ্যে আপনার একাউন্টে লোন মঞ্জুর করা হবে।
লোন নেওয়ার কিছু উত্তম পরামর্শ
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন আপনার জীবন বদলে দিতে পারে, যদি আপনি সঠিক পরিকল্পনা করেন:
- কাগজপত্র সঠিক রাখুন: কোনো জাল কাগজপত্র জমা দেবেন না। এতে লোন পাওয়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয় এবং আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
- প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোন নেবেন না: আপনার বিদেশ যেতে ঠিক যতটুকু টাকা প্রয়োজন, ততটুকুই লোন নিন। বেশি লোন মানে বেশি কিস্তির চাপ।
- সময়মতো কিস্তি পরিশোধ: বিদেশে গিয়ে বেতন পাওয়ার পর নিয়মিত কিস্তি পাঠান। এতে আপনার ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকবে এবং ভবিষ্যতে বড় লোন পেতে সুবিধা হবে।
- মধ্যস্বত্বভোগী থেকে সাবধান: লোন পেতে কোনো দালালের আশ্রয় নেবেন না। সরাসরি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলুন।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন বাংলাদেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য একটি আস্থার জায়গা। এটি শুধু লোন নয়, বরং একটি স্বপ্ন পূরণের চাবিকাঠি। সঠিক নিয়মে আবেদন করলে এবং নিয়ম মেনে কিস্তি পরিশোধ করলে আপনি খুব সহজেই আপনার এবং আপনার পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারবেন।
আপনার যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে সরাসরি প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন অথবা নিকটস্থ ডিজিটাল সেন্টারে যোগাযোগ করতে পারেন।
FAQ
প্রশ্ন ১: লোন পেতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে সাধারণত ৭ থেকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লোন পাওয়া সম্ভব।
প্রশ্ন ২: জমি জামানত ছাড়া কি লোন পাওয়া যায়?
উত্তর: অভিবাসন ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিশেষ ক্ষেত্রে জামানত প্রয়োজন হয় না, তবে সচ্ছল গ্যারান্টার বা জামিনদার বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন ৩: সরাসরি ব্যাংকে না গিয়ে কি অনলাইনে আবেদন করা যায়?
উত্তর: কিছু ক্ষেত্রে অনলাইন প্রাথমিক আবেদন শুরু হলেও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সশরীরে ব্যাংকের শাখায় উপস্থিত হতে হয়।
প্রশ্ন ৪: লোন না নিলে কি স্মার্ট কার্ড পাওয়া যাবে?
উত্তর: হ্যাঁ, লোন নেওয়া ঐচ্ছিক। স্মার্ট কার্ডের সাথে লোনের কোনো সরাসরি বাধ্যবাধকতা নেই।
