সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন পাওয়ার উপায়

সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন পাওয়ার বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশে অনেক সহজ হয়ে গেছে। এক সময় ব্যাংক থেকে সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন নেওয়া মানেই ছিল মাসের পর মাস অপেক্ষা এবং একগাদা কাগজের ঝামেলা। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশের কল্যাণে এখন হাতের স্মার্টফোনটি ব্যবহার করেই আপনি জরুরি প্রয়োজনে সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন পেতে পারেন।

তাহলে ধর্য্য ধরে সাথেই থাকুন, আপনি ৫০ হাজার টাকা লোন পাওয়ার A to Z জানতে পারবেন,তাহলে শুরু করা যাক। 

সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের এমন অনেক সময় আসে যখন হুট করে কিছু টাকার প্রয়োজন হয়। সেটা হতে পারে চিকিৎসার খরচ, ব্যবসার পুঁজি, কিংবা পরিবারের কোনো জরুরি কেনাকাটা। এই সময়ে বড় কোনো অংকের লোন পাওয়া যেমন কঠিন, তেমনি খুব ছোট অংকের টাকা কারো কাছে ধার চাওয়াও অস্বস্তিকর। 

এই সমস্যার সমাধানে বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বেশ কিছু ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন প্রদান করছে।

এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব কীভাবে আপনি সঠিক উপায়ে এবং দ্রুততম সময়ে এই লোন পেতে পারেন।

সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন সুবিধা

সাধারণত ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নেওয়া লোনগুলোকে ‘পার্সোনাল লোন’ বা ‘কনজিউমার লোন’ বলা হয়। ৫০ হাজার টাকার মতো একটি মাঝারি অংকের লোন নেওয়ার প্রধান সুবিধাগুলো হলো:

  • স্বল্প ডকুমেন্টেশন: বড় অংকের লোনের তুলনায় এতে কাগজপত্রের ঝামেলা অনেক কম।
  • দ্রুত প্রসেসিং: অনেক ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লোন পাওয়া সম্ভব।
  • নমনীয় কিস্তি: মাসিক কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকায় পকেটে চাপ পড়ে না।
  • জামানত বিহীন: অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা লোনের জন্য কোনো জমি বা স্বর্ণ বন্ধক রাখতে হয় না।
সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন

সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন নেওয়ার উপায়?

বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি প্রধান উৎস থেকে আপনি এই লোন পেতে পারেন। সেগুলো নিচে দেয়া হলোঃ— 👇

ক. মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) বা ডিজিটাল লোন

বর্তমানে বাংলাদেশে ডিজিটাল লোন সবথেকে জনপ্রিয়। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে বিকাশ (bKash)

  • বিকাশ ও সিটি ব্যাংক লোন: সিটি ব্যাংকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে বিকাশ তাদের গ্রাহকদের ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত ডিজিটাল লোন দিচ্ছিল, তবে বর্তমানে অনেক গ্রাহক তাদের ক্রেডিট লিমিট অনুযায়ী ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত লোন পাচ্ছেন।
  • সুবিধা: কোনো পেপারওয়ার্ক নেই, সরাসরি অ্যাপ থেকে আবেদন করা যায় এবং মুহূর্তেই টাকা একাউন্টে চলে আসে।

খ. বাণিজ্যিক ব্যাংকের পার্সোনাল লোন

দেশের প্রায় সব রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংক পার্সোনাল লোন দেয়। তবে সহজ কিস্তিতে লোন পেতে নিচের ব্যাংকগুলো বেশ জনপ্রিয় । 

  • ব্র্যাক ব্যাংক (BRAC Bank): তাদের ছোট অংকের পার্সোনাল লোন স্কিম বেশ কার্যকর।
  • সিটি ব্যাংক (City Bank): যারা চাকরিজীবী তাদের জন্য দ্রুত লোন দেয়।
  • ডাচ-বাংলা ব্যাংক: স্যালারি একাউন্ট থাকলে এখান থেকে লোন পাওয়া সহজ।
  • ইসলামী ব্যাংক (IBBL): যারা সুদবিহীন বিনিয়োগ বা কিস্তিতে পণ্য কিনতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা।

গ. ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী সংস্থা (NGO)

গ্রামীণ বা আধা-শহর এলাকায় এনজিওগুলো বেশ সক্রিয়। আশা (ASHA), ব্র্যাক (BRAC), বা টিএমএসএস (TMSS) থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য ৫০ হাজার টাকা লোন নেওয়া খুবই সহজ।

আরও পড়ুনঃ  ডাচ বাংলা ব্যাংক পার্সোনাল লোন ২০২৬-লোন নেয়ার নিয়ম,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন পাওয়ার যোগ্যতা

আপনি যদি সহজ কিস্তিতে লোন নিতে চান, তবে সাধারণত নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবেঃ 

  1. বয়স: আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  2. নাগরিকত্ব: অবশ্যই বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে।
  3. আয়ের উৎস: আবেদনকারীর মাসিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট উৎস থাকতে হবে (চাকরি বা ব্যবসা)।
  4. সক্ষমতা: মাসিক কিস্তি পরিশোধ করার মতো আর্থিক স্বচ্ছলতা থাকতে হবে।

লোন নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান ভেদে কাগজের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে সাধারণত যা যা লাগে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) এর ফটোকপি।
  • ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • ইউটিলিটি বিলের কপি (গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির বিল)।
  • চাকরিজীবীদের জন্য স্যালারি সার্টিফিকেট বা পে-স্লিপ।
  • ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট (গত ৬ মাসের)।

অনলাইনে ব্যাংক লোন আবেদন

যদি আপনি বিকাশের মাধ্যমে লোন নিতে চান, তবে প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ:

  1. বিকাশ অ্যাপে লগ-ইন করুন।
  2. মেনু থেকে ‘লোন’ (Loan) আইকনে ট্যাপ করুন।
  3. যদি আপনি লোনের জন্য যোগ্য হন, তবে সেখানে লিমিট দেখতে পাবেন (যেমন: ৫০,০০০ টাকা)।
  4. লোনের পরিমাণ এবং কিস্তির মেয়াদ সিলেক্ট করুন।
  5. শর্তাবলী পড়ে পিন কোড দিয়ে কনফার্ম করুন। টাকা সাথে সাথে আপনার ব্যালেন্সে যোগ হবে।

লোনের সুদের হার ও কিস্তি হিসাব

পার্সোনাল লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার ব্যাংকভেদে ভিন্ন হয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী এই হার নির্ধারিত থাকে।

  • ব্যাংক লোন: সাধারণত ৯% থেকে ১৩% পর্যন্ত সুদের হার হতে পারে।
  • ডিজিটাল লোন: এখানে সুদের হার কিছুটা বেশি হতে পারে তবে প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ।
  • কিস্তি: ৫০ হাজার টাকার লোন যদি আপনি ১২ মাসের কিস্তিতে নেন, তবে প্রতি মাসে আনুমানিক ৪,৫০০ থেকে ৪,৮০০ টাকার মতো কিস্তি আসতে পারে (সুদসহ)।

লোন নেওয়ার আগে ৫টি সতর্কতা

সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন পাওয়ার লোভে ভুল সিদ্ধান্ত নেবেন না। নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই যাচাই করবেন। 

  1. লুকানো খরচ (Hidden Charges): লোন প্রসেসিং ফি বা বীমা বাবদ কত টাকা কাটছে তা আগে জেনে নিন।
  2. সুদের হার: মাসিক নাকি বাৎসরিক হিসেবে সুদ ধরা হচ্ছে তা নিশ্চিত হোন।
  3. কিস্তি পরিশোধের ক্ষমতা: আপনার মাসিক আয় থেকে কিস্তির টাকা দেওয়ার পর সংসার চলবে কি না তা আগেই ক্যালকুলেট করুন।
  4. অনাদায়ী কিস্তির জরিমানা: কোনো মাসে কিস্তি দিতে দেরি হলে কত টাকা জরিমানা দিতে হবে তা জেনে নিন।
  5. অননুমোদিত অ্যাপ থেকে সাবধান: বর্তমানে অনেক ভুয়া লোন অ্যাপ ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেয়। সরকারি অনুমোদনহীন কোনো অ্যাপে নিজের তথ্য দেবেন না।

উপসংহার

জরুরি প্রয়োজনে সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন আপনার বড় কোনো সমস্যা সমাধান করতে পারে। তবে মনে রাখবেন, লোন মানেই একটি দায়। তাই শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময় এবং পরিশোধ করার সক্ষমতা থাকলেই লোনের জন্য আবেদন করা উচিত। সঠিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করুন এবং লোনের সব শর্তাবলী গুরুত্ব সহকারে পড়ুন।

আপনার যদি দ্রুত টাকার প্রয়োজন হয়, তবে প্রথমেই আপনার স্যালারি একাউন্ট যে ব্যাংকে আছে সেখানে যোগাযোগ করুন অথবা বিকাশ/নগদ অ্যাপ চেক করে দেখুন।

FAQ

প্রশ্ন: জামানত ছাড়া কি ৫০ হাজার টাকা লোন পাওয়া সম্ভব? উত্তর: হ্যাঁ, অধিকাংশ ব্যাংক এবং এমএফএস প্রতিষ্ঠান ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পার্সোনাল লোন কোনো জামানত ছাড়াই প্রদান করে।

প্রশ্ন: লোন পেতে কতদিন সময় লাগে? উত্তর: ডিজিটাল লোন বা বিকাশের মাধ্যমে লোন নিলে কয়েক সেকেন্ডে পাওয়া যায়। ব্যাংকের মাধ্যমে নিলে সাধারণত ৩ থেকে ৭ কর্মদিবস সময় লাগে।

প্রশ্ন: আমি বেকার হলে কি লোন পাব? উত্তর: সাধারণত লোন পাওয়ার জন্য আয়ের উৎস থাকা বাধ্যতামূলক। তবে আপনি যদি কোনো ক্ষুদ্র কুটির শিল্প বা ব্যবসার পরিকল্পনা দেখান, তবে এনজিও থেকে লোন পাওয়ার সুযোগ থাকে।

Share Now
Moshiur Rahman

I'm a writer, I always collect information on various topics and present a quality article on that topic. I want everyone to know and learn the correct information, so that they do not believe in wrong information.

error: Content is protected !!