তাৎক্ষণিক ১ লক্ষ টাকা লোন নিতে চাই? কিভাবে লোন পাবেন জেনে নিন

আপনার কি তাৎক্ষণিক ১ লক্ষ টাকা লোন প্রয়োজন? আপনি কি ভাবছেন যে তাৎক্ষণিক ১ লক্ষ টাকা লোন নিতে চাই কিভাবে নিবো? আর কোথায় থেকেই বা এতো তাড়াতাড়ি ১ লক্ষ টাকা লোন পাবো? 

কোনো চিন্তা নাই, আজকের এই আর্টিকেল তাহলে আপনার জন্য।  এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ১ লক্ষ টাকা লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।  

১ লক্ষ টাকা লোন নিতে চাই? 

বর্তমান সময়ে হুট করে বড় কোনো অংকের টাকার প্রয়োজন হলে বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের কাছে হাত পাতা বেশ অস্বস্তিকর। জরুরি চিকিৎসা, ঘরের সংস্কার, ছোট ব্যবসার পুঁজি বা শিক্ষার প্রয়োজনে ১ লক্ষ টাকা লোন এখনকার সময়ে অনেকেরই দরকার হয়। আশার কথা হলো, বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টর এবং ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত।

জরুরি প্রয়োজনে ১ লক্ষ টাকা লোন পাওয়ার জন্য এখন আর মাসের পর মাস ব্যাংকের বারান্দায় ঘুরতে হয় না। সঠিক তথ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে আপনি খুব দ্রুত এই লোন পেতে পারেন। এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব কোন কোন মাধ্যম থেকে আপনি দ্রুততম সময়ে লোন পেতে পারেন এবং এর প্রক্রিয়া কী।

কোথায় থেকে ১ লক্ষ টাকা লোন পাবেন?

বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি প্রধান উৎস থেকে দ্রুত ১ লক্ষ টাকা লোন পাওয়া সম্ভব:

ক. কমার্শিয়াল ব্যাংকের পার্সোনাল লোন

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংকগুলো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে লোন দিয়ে থাকে।

  • সিটি ব্যাংক (City Bank): যারা চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী, তাদের জন্য সিটি ব্যাংক ডিজিটাল পার্সোনাল লোন এবং সাধারণ পার্সোনাল লোন উভয়ই অফার করে।
  • ব্র্যাক ব্যাংক (BRAC Bank): ‘আস্থা’ অ্যাপের মাধ্যমে তারা তাদের বর্তমান গ্রাহকদের জন্য দ্রুত লোনের সুবিধা দেয়।
  • ইস্টার্ন ব্যাংক (EBL): যাদের স্যালারি একাউন্ট এই ব্যাংকে, তারা খুব দ্রুত ১ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারেন।
  • ডাচ-বাংলা ব্যাংক: ডিবিবিএল-এর মাধ্যমেও দ্রুত লোন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, বিশেষ করে কর্পোরেট পে-রোল গ্রাহকদের জন্য।

খ. এমএফএস এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ)

বর্তমানে বিকাশ এবং সিটি ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে ১০,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা লোন দেওয়া শুরু হলেও, অনেক নিয়মিত গ্রাহক এখন তাদের লেনদেনের ভিত্তিতে ৫০,০০০ থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন পাওয়ার যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। যদিও এটি সবার জন্য নয়, তবে আপনার ক্রেডিট স্কোর ভালো থাকলে এটিই সবথেকে দ্রুততম মাধ্যম।

গ. এনজিও (NGO) এবং ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থা

আপনার যদি কোনো ছোট ব্যবসা থাকে, তবে ব্র্যাক (BRAC) বা আশার (ASHA) মতো সংস্থাগুলো থেকে খুব দ্রুত ১ লক্ষ টাকা লোন নেওয়া সম্ভব। গ্রাম বা মফস্বল এলাকায় এটি বেশ জনপ্রিয়।

১ লক্ষ টাকা লোন

১ লক্ষ টাকা লোন পাওয়ার যোগ্যতা

ইনস্ট্যান্ট লোন পাওয়ার জন্য আপনাকে সাধারণত নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

  • বয়স: আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  • পেশা: আপনি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী বা আত্মকর্মসংস্থানকারী হতে পারেন।
  • ন্যূনতম আয়: লোন দাতা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে মাসিক আয় সাধারণত ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার উপরে হতে হবে।
  • বসবাসের স্থান: আপনি যে এলাকায় লোন আবেদন করছেন, সেখানে অন্তত ৬ মাস বা ১ বছর ধরে বসবাস করছেন এমন প্রমাণ থাকতে হবে।
  • ক্রেডিট স্কোর: আগের কোনো লোনের কিস্তি বকেয়া থাকলে লোন পাওয়া কঠিন হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ  সহজ কিস্তিতে ৫০ হাজার টাকা লোন পাওয়ার উপায়

লোন পাওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

১ লক্ষ টাকা লোনের জন্য খুব বেশি জটিল কাগজের প্রয়োজন হয় না, তবে নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রস্তুত রাখা ভালো:

  1. এনআইডি কার্ড: জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি ও ফটোকপি।
  2. ছবি: ল্যাব প্রিন্ট পাসপোর্ট সাইজের ২-৪ কপি ছবি।
  3. আয়ের প্রমাণ: চাকরিজীবীদের জন্য স্যালারি সার্টিফিকেট বা গত ৩-৬ মাসের পে-স্লিপ। ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স।
  4. ব্যাংক স্টেটমেন্ট: আপনার আয়ের লেনদেন বোঝা যায় এমন অন্তত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  5. ইউটিলিটি বিল: বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি (ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য)।
  6. গ্যারান্টার: ব্যাংক ভেদে একজন বা দুইজন গ্যারান্টারের তথ্য ও ছবি লাগতে পারে।

অনলাইনে আবেদনের ধাপসমূহ (স্টেপ-বাই-স্টেপ)

অধিকাংশ ব্যাংক এখন অনলাইনে আবেদনের সুবিধা দেয়। প্রক্রিয়াটি সাধারণত এরকম হয়:

  • ধাপ ১: সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইট বা অ্যাপে প্রবেশ করুন।
  • ধাপ ২: ‘Apply for Personal Loan’ সেকশনে যান।
  • ধাপ ৩: আপনার নাম, মোবাইল নম্বর এবং আয়ের তথ্য প্রদান করুন।
  • ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় কাগজের স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
  • ধাপ ৫: ব্যাংকের প্রতিনিধি আপনাকে কল করে তথ্য যাচাই করবে এবং ফাইল প্রসেস করবে।

সুদের হার ও কিস্তি (EMI) ক্যালকুলেশন

১ লক্ষ টাকা লোন নেওয়ার আগে সুদের হার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি।

  • সুদের হার: বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্মার্ট রেট অনুযায়ী অধিকাংশ ব্যাংকের পার্সোনাল লোনের সুদ ৯% থেকে ১৩.৫% পর্যন্ত হতে পারে।
  • কিস্তি হিসাব: আপনি যদি ১ লক্ষ টাকা লোন ৯% সুদে ২ বছরের জন্য নেন, তবে আপনার মাসিক কিস্তি হবে আনুমানিক ৪,৫৭০ টাকা। মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে এই অংক কম-বেশি হতে পারে।

১ লক্ষ টাকা লোন পাওয়ার সহজ কৌশল

লোন যেন রিজেক্ট না হয় সেজন্য নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করুন:

  • সঠিক তথ্য দিন: আবেদন ফরমে কোনো তথ্য গোপন করবেন না।
  • বর্তমান লোন: আপনার যদি অন্য কোনো ব্যাংকে লোন থাকে, তবে সেটি পরিশোধ করে নতুন আবেদন করা ভালো।
  • ব্যাংক রিলেশন: যে ব্যাংকে আপনার স্যালারি একাউন্ট বা সেভিংস একাউন্ট আছে, সেখান থেকে লোন পাওয়া সবথেকে সহজ।
  • ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার: আপনার ক্রেডিট কার্ডের বিল নিয়মিত পরিশোধ করলে আপনার ক্রেডিট স্কোর বাড়ে, যা লোন পেতে সাহায্য করে।

সাবধানতা: লোনের ফাঁদে পা দেবেন না

ইন্টারনেটে বা ফেসবুকে অনেক লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখা যায় যেখানে “৫ মিনিটে ১ লক্ষ টাকা লোন” বা “বিনা শর্তে লোন” এর কথা বলা হয়।

  • অননুমোদিত অ্যাপ: অনেক মোবাইল অ্যাপ আছে যেগুলো উচ্চ সুদে লোন দেয় এবং পরে গ্রাহককে হ্যারাস করে। এগুলো থেকে দূরে থাকুন।
  • অতিরিক্ত চার্জ: লোন নেওয়ার আগে প্রসেসিং ফি, ইন্সুরেন্স ফি এবং ভ্যাট সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।
  • হিডেন কস্ট: এমন কোনো শর্ত আছে কি না যা পরে আপনার ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে, তা ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে বুঝে নিন।
আরও পড়ুনঃ   ইসলামী ব্যাংক উদ্যোক্তা লোন ২০২৬-লোন নেয়ার নিয়ম A to Z

উপসংহার

১ লক্ষ টাকা লোন পাওয়া এখন আর অসম্ভব কিছু নয়। আপনার যদি নিয়মিত আয়ের উৎস থাকে এবং আপনি যদি ব্যাংকের শর্তগুলো পূরণ করতে পারেন, তবে খুব সহজেই আপনি এই টাকা পেতে পারেন। তবে লোন নেওয়ার আগে সবসময় নিজের পরিশোধ করার সক্ষমতা যাচাই করে নেবেন। কিস্তি খেলাপী হলে আপনার ভবিষ্যৎ আর্থিক লেনদেনে সমস্যা হতে পারে।

সবসময় চেষ্টা করবেন মূলধারার ব্যাংক বা অনুমোদিত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে লোন নিতে, যাতে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য এবং অর্থ নিরাপদ থাকে।

FAQ

১. ১ লক্ষ টাকা লোন পেতে কি কোনো জামানত লাগে?
উত্তর: সাধারণত ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পার্সোনাল লোনের জন্য কোনো জমি বা স্বর্ণ বন্ধক রাখতে হয় না, তবে একজন গ্যারান্টর এবং ব্যক্তিগত চেকের প্রয়োজন হতে পারে।

২. লোন পেতে সর্বনিম্ন কত টাকা মাসিক আয় থাকা প্রয়োজন?
উত্তর: ব্যাংকভেদে ভিন্ন হয়, তবে সাধারণত চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মাসিক ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ৩০,০০০ টাকা আয় থাকা প্রয়োজন।

৩. লোন প্রসেস হতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: ডিজিটাল লোন বা এমএফএস (বিকাশ) হলে তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়। তবে প্রথাগত ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর ৩ থেকে ৭ কর্মদিবস সময় লাগতে পারে।

৪. ১ লক্ষ টাকা লোনের মাসিক কিস্তি (EMI) কত হতে পারে?
উত্তর: সুদের হার ৯-১৩% হলে এবং ২ বছর মেয়াদে লোন নিলে মাসিক কিস্তি আনুমানিক ৪,৫০০ থেকে ৪,৮০০ টাকার মধ্যে হতে পারে।

৫. লোন পরিশোধে দেরি হলে কী হয়?
উত্তর: কিস্তি দিতে দেরি হলে নির্দিষ্ট হারে জরিমানা (Late Fee) গুণতে হয় এবং আপনার ক্রেডিট স্কোর বা সিআইবি (CIB) রিপোর্ট খারাপ হয়, যা ভবিষ্যতে লোন পাওয়া কঠিন করে দেয়।

Share Now
Moshiur Rahman

I'm a writer, I always collect information on various topics and present a quality article on that topic. I want everyone to know and learn the correct information, so that they do not believe in wrong information.

error: Content is protected !!