ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন ২০২৬-লোন নেয়ার নিয়ম বিস্তারিত

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন সম্পর্কে অনেকে জানে, আবার অনেকেই ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানে না। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে বেশ কয়েক প্রকার ঋণ প্রদান করে থাকে তার মধ্যে গাড়ি লোন অন্যতম।

আপনি কি জানতে চান যে—

  1. গাড়ি লোনটি মূলত কাদের জন্য?
  2. করা গাড়ি লোন পেতে পারে ?  
  3. গাড়ি লোন নেয়ার জন্য প্রসেস কি?
  4. কিভাবে একজন প্রবীণ/ নবীন এই গাড়ি লোন পেতে পারে !
  5. গাড়ি লোনের সুদের হার কত? 
  6. একজন ব্যক্তি কত টাকা পর্যন্ত এই লোন পেতে পারে?
  7. এই লোনেই ভালোদিক-খারাপ দিক কি
  8. লোন পাওয়ার জন্য কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন
  9. লোন পরিশোধের নিয়ম কেমন ইত্যাদি। 

আচ্ছা, যদি আপনি এই বিষয়গুলো জানতে চান, তাহলে আজকের এই আর্টিকেলে এই বিষয় সম্পর্কে একদম বিস্তারিত সঠিক তথ্যটাই জানতে পারবেন। তাহলে শুরু করা যাক প্রতিটা বিষয় একদম ধাপে ধাপে বিস্তারিত। 

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন বা কার ইনভেস্টমেন্ট কী?

সাধারণত অন্যান্য ব্যাংক সুদের বিনিময়ে লোন দেয়, কিন্তু ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত হওয়ায় তারা সরাসরি ‘লোন’ বা ‘ঋণ’ দেয় না। তারা মূলত ‘এইচপিএসএম’ (HPSM – Hire Purchase under Shirkatul Melk) পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে। 

এর অর্থ হলো, ব্যাংক এবং গ্রাহক যৌথ মালিকানায় গাড়িটি কেনে। ব্যাংক তার অংশের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ লাভ (Profit) গ্রহণ করে এবং গ্রাহক মাসিক কিস্তির মাধ্যমে ব্যাংকের মালিকানা অংশ কিনে নেন। যখন সব কিস্তি পরিশোধ হয়ে যায়, তখন গাড়িটির পূর্ণ মালিকানা গ্রাহকের কাছে হস্তান্তরিত হয়।

ইসলামী ব্যাংকের এই ব্যবস্থায় সুদের কোনো কারবার নেই, যা একে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য এবং স্বচ্ছ করে তোলে।

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোনের বৈশিষ্ট্য

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোনটি বেশ কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে গ্রাহকদের কাছে অনেক জনপ্রিয়। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • শরীয়াহ ভিত্তিক পরিচালনা: সম্পূর্ণ সুদমুক্ত এবং ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত।
  • বিনিয়োগের সীমা: গ্রাহকের আয়ের ওপর ভিত্তি করে ৪০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি (ব্যাংকের পলিসি অনুযায়ী পরিবর্তনশীল) লোন পাওয়া সম্ভব। সাধারণত গাড়ির মোট মূল্যের ৫০% পর্যন্ত ব্যাংক বিনিয়োগ করে থাকে।
  • দীর্ঘমেয়াদী কিস্তি: লোন পরিশোধের জন্য সাধারণত ১ থেকে ৫ বছর (৬০ মাস) পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়।
  • দ্রুত প্রসেসিং: সঠিক কাগজপত্র জমা দিলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে লোন অ্যাপ্রুভ করা হয়।
  • আংশিক পরিশোধের সুযোগ: গ্রাহক চাইলে মেয়াদের আগেই আংশিক বা পূর্ণ টাকা পরিশোধ করে মালিকানা বুঝে নিতে পারেন।
  • নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ি: এই স্কিমের আওতায় আপনি নতুন বা বিদেশ থেকে আমদানিকৃত রিকন্ডিশন্ড—উভয় প্রকার গাড়ির জন্যই লোন পেতে পারেন।

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোনের যোগ্যতা

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। আসুন ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন পাওয়ার বিষয় বা যোগ্যতা দেখে নিন সেগুলো কি কি! 

  1. জাতীয়তা: আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
  2. বয়স সীমা: সাধারণত ২১ বছর থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
  3. পেশা: সরকারি চাকরিজীবী, স্বনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মকর্তা, পেশাদার (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট) এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী।
  4. মাসিক আয়: মাসিক আয় নূন্যতম ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা হতে হবে (ব্যাংকের শাখা ও গ্রাহকের প্রোফাইল ভেদে এটি পরিবর্তিত হতে পারে)।
  5. কাজের অভিজ্ঞতা: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে কমপক্ষে ২ বছরের অভিজ্ঞতা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ৩ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।

গাড়ি লোন আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সঠিক সময়ে লোন পেতে হলে প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্টস আগে থেকেই গুছিয়ে রাখা জরুরি। ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন নেয়ার জন্য সাধারণ কিছু কাগজপত্র নিচে উল্লেখ করা হলোঃ

  1. আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং এনআইডি (NID) কার্ডের ফটোকপি।
  2. বর্তমান ঠিকানার ইউটিলিটি বিলের কপি (গ্যাস/বিদ্যুৎ/পানি)।
  3. ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেটের কপি।
  4. গত ৬ মাস থেকে ১ বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট।
  5. চাকরিরতদের জন্য স্যালারি সার্টিফিকেট বা বেতন বিবরণী।
  6. ব্যবসায়ীদের জন্য আপ-টু-ডেট ট্রেড লাইসেন্স এবং গত ২ বছরের অডিট রিপোর্ট (প্রয়োজন হলে)।
  7. গাড়ির কোটেশন (যে শোরুম থেকে গাড়ি কিনবেন সেখান থেকে গাড়ির মডেল ও দামের বিবরণ)।
  8. জামিনদারের ছবি, এনআইডি এবং আয়ের উৎস সংক্রান্ত কাগজ।

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোনের সুদের হার

ইসলামী ব্যাংক যেহেতু সুদ নেয় না, তাই এখানে সুদের হারের পরিবর্তে ‘ইনভেস্টমেন্ট রেট’ বা ‘মুনাফার হার’ বলা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নীতিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে ঋণের সুদের হার বা মুনাফার হার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকে। সাধারণত এটি ৯% থেকে ১১% এর মধ্যে ওঠানামা করতে পারে। তবে এটি সময়ভেদে পরিবর্তনশীল। সঠিক রেট জানতে আপনার নিকটস্থ ইসলামী ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করা উত্তম।

মনে রাখবেন, ইসলামী ব্যাংকের মুনাফার হার একবার চুক্তিবদ্ধ হলে সাধারণত তা অপরিবর্তিত থাকে, যা গ্রাহকের জন্য কিস্তি পরিশোধ সহজ করে তোলে।

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন নেয়ার নিয়ম

আপনি চাইলে সরাসরি ইসলামী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে অথবা অনলাইনে ইসলামী ব্যাংকের ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে প্রাথমিক যোগাযোগ করতে পারেন। নিচে ধাপে ধাপে পদ্ধতিটি দেওয়া হলো:

  1. ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন নেয়ার জন্য আপনাকে আপনার নিকটস্থ যেকোনো একটা শাখায় যেতে হবে, আপনি চাইলে এজেন্ট শাখাগুলোতেও যেতে পারেন । 
  2. ইসলামী ব্যাংক শাখায় গিয়ে লোন ডেস্কে যোগাযোগ করুন এবং তাদের থেকে ধাপে ধাপে এগোন। 
  3. এরপর, তারা আপনাকে ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোনের জন্য যে ফরম আছে , সেটি আপনাকে দিবে, আপনি সেটা সুন্দর করে সঠিক তথ্য দিয়ে পুরন করবেন।
  4. এরপর,ফরম পুরন করা হলে সেটি জমা দিবেন। 
  5. জমা দেয়ার পর, আপনার তথ্যগুলো ব্যাংক কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই করবে। আপনি যদি লোণের জন্য যোগ্য হন, তখন আপনি লোন পাবেন। 

এই ধাপগুলো অনুসরণ করে আপনি সহজেই ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন।

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন পরিশোধের নিয়ম

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন পরিশোধের প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সহজ। নিচে ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন পরিশোধের প্রধান নিয়মগুলো দেওয়া হলো:

  • মাসিক কিস্তি (EMI): লোন অনুমোদনের পর প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা কিস্তি হিসেবে পরিশোধ করতে হয়।
  • অটো-ডেবিট সুবিধা: আপনার যদি ইসলামী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব থাকে, তবে ব্যাংক স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতি মাসের নির্দিষ্ট তারিখে কিস্তি কেটে নেবে।
  • মেয়াদ: সর্বোচ্চ ৫ বছরের মধ্যে লোন পরিশোধ করতে হয়।
  • আগাম পরিশোধ: আপনি চাইলে চুক্তিবদ্ধ সময়ের আগেই লোন ক্লোজ করে দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ব্যাংক কিছু ক্ষেত্রে প্রসেসিং ফি বা সমন্বয় চার্জ নিতে পারে।

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন (HPSM – Transport) তথ্য চার্ট

নিম্নে গাড়ি লোনের একটি তথ্য চার্ট দেয়া হলোঃ-

বিষয়বিস্তারিত তথ্য (সঠিক ও হালনাগাদ)
বিনিয়োগের নামHire Purchase under Shirkatul Melk (HPSM)
সর্বোচ্চ বিনিয়োগ সীমা৪০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত (বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলিং অনুযায়ী)
ইকুইটি অংশগ্রহণ (Margin)৫০:৫০ (গাড়ির দামের ৫০% আপনি দিবেন, ৫০% ব্যাংক দিবে)
মুনাফার হার (Profit Rate)৯.০০% থেকে ১১.৫০% (SMART রেট + ৩% স্প্রেড অনুযায়ী)
পরিশোধের মেয়াদসর্বনিম্ন ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর (৬০ কিস্তি)
গাড়ির বয়স (রিকন্ডিশন্ড)উৎপাদন বছর থেকে সর্বোচ্চ ৮ বছর পর্যন্ত (পুরানো গাড়ির ক্ষেত্রে)
প্রসেসিং ফিবিনিয়োগকৃত অংকের ০.৫০% অথবা সর্বোচ্চ ১৫,০০০ টাকা + ভ্যাট

মাসিক কিস্তির (EMI) একটি সঠিক হিসাব (নমুনা)

ধরা যাক, আপনি ব্যাংক থেকে ১০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ নিলেন এবং মুনাফার হার ১০%। সেক্ষেত্রে বিভিন্ন মেয়াদে আপনার মাসিক কিস্তি হবে নিম্নরূপ:

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন

প্রবাসীরা কি এই লোন নিতে পারবেন?

অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে যে, প্রবাসীরা কি ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন সুবিধা পাবেন? উত্তর হলো—হ্যাঁ, প্রবাসীরাও ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন নিতে পারবেন, তবে তাদের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি শর্ত প্রযোজ্য হয়।

প্রবাসীদের ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন নেয়ার নিয়ম:

  1. বৈধ কর্মসংস্থান: প্রবাসীকে অবশ্যই বিদেশের মাটিতে বৈধভাবে কর্মরত থাকতে হবে এবং নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠানোর রেকর্ড থাকতে হবে।
  2. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: ইসলামী ব্যাংকে একটি সচল সঞ্চয়ী বা এনআরবি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।
  3. দেশে প্রতিনিধি (Attorney): প্রবাসীকে দেশে তার পক্ষে লোন সংক্রান্ত কাজ করার জন্য একজন প্রতিনিধি বা অ্যাটর্নি নিযুক্ত করতে হয় (সাধারণত বাবা, মা, ভাই বা স্ত্রী)।
  4. গ্যারান্টর: দেশে বসবাসকারী একজন আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিকে গ্যারান্টর হিসেবে দিতে হবে।
  5. প্রয়োজনীয় কাগজ: পাসপোর্টের কপি, ভিসার কপি, ওয়ার্ক পারমিট এবং বিদেশের ব্যাংক স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।

প্রবাসীরা ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন নিয়ে দেশে পরিবারের যাতায়াত সহজ করতে পারেন অথবা ছুটিতে দেশে এসে নিজের গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ   ইসলামী ব্যাংক উদ্যোক্তা লোন ২০২৬-লোন নেয়ার নিয়ম A to Z

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন পাওয়ার পরামর্শ

ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন নেওয়া একটি বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত। তাই হুটহাট সিদ্ধান্ত না নিয়ে নিচের পরামর্শগুলো মেনে চলতে পারেন:

  • নিজের সামর্থ্য যাচাই করুন: আপনার মাসিক আয়ের কত শতাংশ কিস্তি দিতে ব্যয় হবে তা হিসাব করুন। সাধারণত আয়ের ৩০-৪০% এর বেশি কিস্তি হওয়া উচিত নয়।
  • ডাউন পেমেন্ট বেশি দিন: গাড়ির মূল্যের যত বেশি টাকা আপনি শুরুতে (Down Payment) দিতে পারবেন, আপনার লোনের পরিমাণ এবং মুনাফা তত কম হবে।
  • গাড়ি নির্বাচন: আপনি কি নতুন গাড়ি কিনবেন নাকি রিকন্ডিশন্ড? রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম কম হলেও এর মেইনটেইনেন্স খরচ বেশি হতে পারে। ব্যাংকের সাথে কথা বলে নিন তারা কত বছরের পুরনো রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে ইনভেস্ট করবে।
  • লুকানো খরচ জানুন: লোন প্রসেসিং ফি, ইন্স্যুরেন্স ফি, এবং স্ট্যাম্প ডিউটি সম্পর্কে আগেভাগেই পরিষ্কার ধারণা নিন।
  • ভেরিফিকেশন: শোরুম থেকে গাড়ি কেনার আগে গাড়ির ইঞ্জিন নম্বর, চ্যাসিস নম্বর এবং অন্যান্য আইনি কাগজপত্র ঠিক আছে কি না তা বিআরটিএ (BRTA) থেকে যাচাই করে নিন।
  • সঠিক বীমা (Takaful): যেহেতু এটি ইসলামী ব্যাংক, তাই গাড়িটির জন্য ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বা তাকাফুল করা বাধ্যতামূলক হতে পারে। এটি আপনার গাড়ির নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

কেন আপনি ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোনের জন্য বেছে নেবেন?

বাজারে অনেক ব্যাংক গাড়ি লোন দিলেও ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোনের বেশ কিছু বিশেষ সুবিধা রয়েছে। যেমনঃ-

  • এটি সম্পূর্ণ শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত, যা ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের জন্য আদর্শ।
  • মুনাফার হার প্রতিযোগিতামূলক এবং স্বচ্ছ।
  • কোনো প্রকার হিডেন চার্জ বা লুকানো খরচ নেই।
  • দেশব্যাপী বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্কের কারণে যেকোনো জায়গা থেকে সেবা নেওয়া সহজ।
  • গ্রাহকসেবার মান অত্যন্ত উন্নত।

উপসংহার

একটি স্বপ্নের গাড়ি আপনার জীবনযাত্রাকে সহজ এবং গতিশীল করতে পারে। আর ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন সেই স্বপ্ন পূরণের পথে আপনার বিশ্বস্ত সঙ্গী হতে পারে। সহজ আবেদন প্রক্রিয়া, দীর্ঘমেয়াদী কিস্তি এবং শরীয়াহ ভিত্তিক লেনদেনের নিশ্চয়তা নিয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

তবে মনে রাখবেন, যেকোনো ধরনের লোন বা বিনিয়োগ নেওয়ার আগে ব্যাংক থেকে বিস্তারিত জেনে নেওয়া এবং চুক্তির শর্তগুলো ভালো করে পড়া অত্যন্ত জরুরি। আপনার আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে গাড়ির মডেল এবং লোনের পরিমাণ নির্বাচন করুন।

আশা করি, আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাকে ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে। আপনার যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে, তবে সরাসরি আপনার নিকটস্থ ইসলামী ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন অথবা তাদের হেল্পলাইনে ফোন দিতে পারেন। আপনার গাড়ির স্বপ্ন পূরণ হোক নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে।

FAQ

১. ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন কি সম্পূর্ণ সুদমুক্ত?
উত্তর: হ্যাঁ, ইসলামী ব্যাংক শরীয়াহ ভিত্তিক পরিচালিত হওয়ায় তারা প্রচলিত সুদের বদলে ‘এইচপিএসএম’ (HPSM) পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করে। এখানে ব্যাংক এবং গ্রাহক যৌথ মালিকানায় গাড়িটি কেনে। ব্যাংক তার অংশের জন্য একটি নির্দিষ্ট মুনাফা (Profit) গ্রহণ করে, যা আগে থেকেই নির্ধারিত থাকে। ফলে এটি প্রচলিত সুদী ঋণের চেয়ে আলাদা এবং সুদমুক্ত।

২. গাড়ির মূল্যের কত শতাংশ লোন বা ইনভেস্টমেন্ট পাওয়া যায়?
উত্তর: সাধারণত ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন স্কিমের আওতায় গাড়ির মোট মূল্যের ৫০% পর্যন্ত ব্যাংক বিনিয়োগ করে থাকে। বাকি ৫০% টাকা গ্রাহককে নিজস্ব তহবিল থেকে (Equity) পরিশোধ করতে হয়। তবে গ্রাহকের আয় এবং ব্যাংকের সাথে সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে এই অনুপাত কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

৩. ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম মাসিক আয় কত হতে হবে?
উত্তর: ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর আয়ের উৎস নিশ্চিত থাকতে হয়। সাধারণত সরকারি বা বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে মাসিক ন্যূনতম বেতন ৩০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা হওয়া প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে মাসিক নিট মুনাফা এবং লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে ব্যাংক এই যোগ্যতা নির্ধারণ করে।

৪. লোন পরিশোধের জন্য সর্বোচ্চ কত সময় পাওয়া যায়?
উত্তর: ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন পরিশোধের জন্য গ্রাহক সাধারণত ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ৫ বছর (৬০ মাস) পর্যন্ত সময় পেতে পারেন। গ্রাহক তার সুবিধা অনুযায়ী মাসিক কিস্তির (EMI) পরিমাণ নির্ধারণ করে এই সময়ের মধ্যে লোনটি পরিশোধ করতে পারেন।

৫. প্রবাসীরা কি দেশে না এসেও এই লোন নিতে পারবেন?
উত্তর: প্রবাসীরা সরাসরি ইসলামী ব্যাংক গাড়ি লোন নিতে পারলেও তাদের আবেদনের সময় বা লোন প্রসেসিংয়ের সময় দেশে থাকা উত্তম। তবে তারা চাইলে দেশে একজন আইনগত প্রতিনিধি (Power of Attorney) নিয়োগ করে তার মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রমাণ এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

Share Now
Moshiur Rahman

I'm a writer, I always collect information on various topics and present a quality article on that topic. I want everyone to know and learn the correct information, so that they do not believe in wrong information.